Skip to main content

প্রফেশনাল ট্রাভেল ব্লগার হতে চান ? আপনার জন্য কিছু টিপস

বর্তমান ২০১৯ সাল আপনার মাথায় এই প্রশ্ন টা আসতেই পারে, এখন এই সময়ে কে ব্লগ পড়বে ?  তাও আবার ট্রাভেল ব্লগ। এখন তো ভিডিও এর যুগ, এখন কি কেঁউ ব্লগার পড়ে নাকি ? যদি আপনি এমন টা ভেবে থাকেন বা আপনার এমন টা মনে হয় তাহলে আমি বলবো আপনি সম্পূর্ণ ভুল। কেননা এখনও সারা বিশ্বে ৭২% মানুষ ব্লগ পড়ে। হ্যাঁ আমি ঠিক বলছি আপনি গুগলে সার্চ করে দেখতে পারেন। তো যাই হোক এখন মুল প্রসঙ্গে আশা যাক, আপনি কি একজন প্রফেশনাল ট্রাভেল ব্লগার হতে চান তাহলে আপনার জন্য কিছু দরকারি টিপস। এবং বিস্তারিত আলোচনা করবো ট্রাভেল ব্লগিং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে।
প্রফেশনাল ট্রাভেল ব্লগার হয়ে উঠতে গেলে এই বিষয় গুলা মেনে চলতে হবে

  • আপনাকে ভালো করে লিখতে হবে
  • মিথ্যা বলতে বা লিখতে পারবেন না - বিস্তারিত পোস্ট এর ভিতর আলোচনা করছি
  • আপনার বাজেট অনুযায়ী ট্রাভেল করা
  • ধৈর্য রাখতে হবে - পাশাপাশি আর্টিকেল লিখে যেতে হবে

দেখুন ব্লগিং করার মুল মন্ত্র হল সুন্দর করে লেখা। সে আপনি ট্রাভেল নিয়ে আর্টিকেল লিখুন বা অন্য কোন টপিক নিয়ে। আপনাকে এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে করে আপনার লেখাটি যে পড়বে তার মনে একটা সুপস্ট ধারনা চলে আসে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন, এবং সেই সঙ্গে আপনার লেখা পড়ে আপনার ব্লগের পাঠক যেন ইম্যাজিন করতে পারে আপনার লেখার সাথে বাস্তবতার। আপনার লেখা আর্টিকেল গুলা প্রথম দিকে প্রফেশনাল নাও হতে পারে,তবে আস্তে আস্তে লিখতে লিখতে আপনিও এক্সপার্ট হয়ে যাবেন। তখন আর কোন প্রবলেম এর সম্মুখীন হতে হবে না আপনাকে। মনে রাখবেন আপনি ঠিক যতটা ভালো করে লিখতে পারবেন আপনার ব্লগ ততটাই পপুলার হবে। মোট কথা আপনি যদি আপনার ব্লগ কে প্রফেশনাল লেভেল এ নিয়ে যেতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভালো করে আর্টিকেল লেখা শিখতে হবে। না হলে যতই ভালো কনটেন্ট থাকুক আপনার ব্লগে কোথাও একটা পিছিয়ে থাকবেন। এখন আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন কীভাবে ভালো করে কনটেন্ট রাইটিং শিখতে হবে, বা কীভাবে শিখবো ? তাহলে আমার উত্তর আগে যা বলেছি এখনও তাই থাকবে। আপনাকে লিখতে হবে তারপর আস্তে আস্তে আপনি এক্সপার্ট হয়ে যাবেন। এই যে আমি আমিও একটা সময় সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারতাম না। তা ছাড়া কিভাবে,কি দিয়ে কি করে লিখবো তাও বুজতে পারতাম না। তবে তার মানে এই না আমি একজন প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার, আমারও এখনও অনেক ভুল আছে, আমি নিজে এখনও অনেক ভুল করি আর্টিকেল লিখতে গিয়ে। তো ঠিক এভাবেই আপনাকেও কনটেন্ট লিখে যেতে হবে আপনিও এক সময় অনেক সুন্দর করে আর্টিকেল লিখতে পারবেন। আরও একবার বলছি আপনার ব্লগের লেখার মান যতটা ভালো হবে, আপনার সাকসেস এর % ও ততটাই বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি আপনি সাথে আপনার ব্লগ দুটোই প্রফেশনাল হয়ে যাবে।
মিথ্যা ইনফরমেশন দেওয়া যাবে না আপনার ব্লগের রাইডার দের ।

মিথ্যা ইনফরমেশন দেওয়া বলতে বুঝাতে চেয়েছি, মনে করুন আপনি একটি ট্রাভেল বা কোন একটা নিদিষ্ট টপিক নিয়ে আর্টিকেল লিখছেন, এখন আপনি নেজে ১০০% জানেন না সেই কাঙ্খিত টপিক এর বিষয়ে, আপনি অন্য কোন জায়গা থেকে পরেছেন এবং কপি পেস্ট করে দিয়েছেন। এমন তা করা যাবে না, আগে আপনি নিজে জানুন তারপর অন্যকে জানান বা শিখান। না হলে আপনার ব্লগ সাকসেসফুল হবে না কখনই, সর্বদাই মিথ্যা কে পরিহার করুন। এবং এই আর্টিকেল টা যেহেতু ট্রাভেল নিয়ে সেই জন্য আরও একটা বিষয় নিয়ে আপনাকে সুপস্ট ধারনা দিতে চাই। কখনই এমন টা করবেন না আপনি অন্য কোন একটা ট্রাভেল ব্লগ থেকে পরলেন এবং তারপর আপনি আপনার ব্লগে আর্টিকেল লিখে ফেললেন। আপনাকে লেখার আগে সেই জায়গা সম্পর্কে নিজের জানতে হবে এবং বিস্তারিত জানতে হবে। না হলে আপনি ঠিক থাক লিখবেন কীভাবে। তাই সব সময় চেষ্টা করুন আপনি বিস্তারিত জানেন বা আপনার সাথে পরিচিত সব কিছুই, তাহলে আপনার ব্লগ এর রাইডার দের আপনার প্রতি একটা বিশ্বাস তৈরি হবে। ফলে আপনার ব্লগের রাইডার না আপনার ব্লগ ছেড়ে অন্য কোথাও যাবে না।

আপনার বাজেট অনুযায়ী ট্রাভেল করতে হবে

চেষ্টা করতে হবে আপনার যেমন বাজেট সে ভাবেই ট্রাভেল করার, আপনার বাজেট এর বাইরে হলে ট্রাভেল করার কোন প্রয়োজন নাই, বা আপনি ট্রাভেল করতে পারবেন না এমন কোন জায়গা নিয়ে আর্টিকেল লেখার ও দরকার নেই। মানে আমি আগে যা বলেছি দেখা গেলো একটা যায়গায় আপনি যান নাই বা যেতে পারবেন না আপনার ওই জায়গা নিয়ে লেখার দরকার নেই, এমন টা করবেন না অন্য কারো ব্লগ থেকে পড়ে এসে কপি পেস্ট করবেন আপনার ব্লগে। এমন টা করলে আপনি বা আপনার ব্লগ কখনই সাকসেস হবে না, হতেও পারবেনা। তাই সর্বদা চেষ্টা করুন নিজের বাজেট এর ভিতর ট্রাভেল করতে এবং আপনি ট্রাভেল করেছেন এমন জায়গা নিয়ে আপনার ব্লগে আর্টিকেল লিখতে। তবে আপনার বাজেট যদি অনেক বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনি যেখানে যেভাবে খুশি ট্রাভেল করতে পারেন, এবং আপনার কাঙ্খিত ট্রাভেল করা বিষয়ের উপর আপনার ব্লগে আর্টিকেল লিখতে পারেন। আর যদি আপনার বাজেট কম হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনি আপনার বাজেটের ভিতর ট্রাভেল করুন এবং তারপর আপনার ব্লগে আর্টিকেল লিখুন। তারপর যখন আপনার ব্লগ থেকে আরনিং হবে তখন আপনি আপনার সাধ্য মতন ট্রাভেল করুন এবং আপনার ট্রাভেল করা জায়গার উপর ভালো করে আর্টিকেল লিখুন। মুল কথা আপনার বর্তমানে যেমন বাজেট আপনি সেই ভাবেই ট্রাভেল করুন এবং ব্লগিং শুরু করুন।

ধৈর্য রাখতে হবে, ধৈর্য হারালে চলবেনা

ধৈর্য রাখতে হবে কথাটা বলার মুল কারন অনেক ব্লগার আছে এমন যারা কিছু দিন ব্লগে আর্টিকেল লেখার পড়ে ছেড়ে দেয়। আবার অনেকে এরকম আছে যারা ব্লগিং করতে আসে শুধু ইনকাম করার জন্য, কিন্তু কিছুদিন আর্টিকেল পাবলিশ করার পর যখন দেখে কিছুই হচ্ছে না, তখন ব্লগিং করা ছেড়ে দেয়। তবে আপনি যদি নিজেকে একজন প্রফেশনাল ব্লগার হিসাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই অনেক ধৈর্য সাথে কষ্টও করতে হবে। কখনই ভাববেন না আপনি আপনার ব্লগে ৫০,১০০ টা আর্টিকেল লিখে দিছেন, যার ফলে আপনি একজন প্রফেশনাল ব্লগার হয়ে গিছেন বা আপনার ব্লগ প্রফেশনাল হয়ে গিছে। আমি আপনাকে বলে রাখতে চাই প্রফেশনাল ব্লগার হয়ে উঠতে গেলে আপনাকে কখনই থেমে থাকলে চলবেনা, আপনাকে প্রতিনিয়ত আপনার ব্লগে আর্টিকেল পাবলিশ করে যেতে হবে, তবেই আপনি হতে পারবেন একজন প্রফেশনাল ব্লগার। এবং কম করে আপনাকে ১ বছর সময় দিতে হবে আপনার ব্লগার এর পিছনে, আপনার ব্লগ কে পপুলার করার জন্য। এবং তারপর গিয়ে টাকার ইনকাম করার চিন্তা ভাবনা মাথায় আনবেন, এর আগে যদি টাকা ইনকাম করার জন্য আপনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন তাহলে আপনি ব্লগিং করতে পারবেন না, সে আপনি যে টপিক নিয়েই ব্লগিং করুন না কেন। তো শেষ কথা এটাই আপনি যদি নিজেকে একজন সফল ব্লগার হিসাবে দেখতে চান, তাহলে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। এবং নিজের কাজের উপর বিশ্বাস করতে হবে। তবেই আপনার কাছে সাফল্য আসবে।

এখন কথা বলা যাক ট্রাভেল ব্লগিং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে

আমার একটা ফ্রেন্ড আছে ইন্ডিয়াতে ওর নাম বলছিলা, ওর একটা ট্রাভেল ব্লগ আছে, আমার ওই ফ্রেন্ড এর ব্লগ এর বয়স এই প্রায় ৩ বছর এর মতো, ওর ভাষ্যমতে ওর ব্লগ থেকে প্রতি মাসে ৭৫০ ডলার এর মতো আসে, এবং পেজ ভিউ প্রতি মাসে ৫৫ থেকে ৬৫ হাজার এর ভিতর থাকে।  তাহলে ভাবুন তো একটু। আর তা ছাড়া ট্রাভেল ব্লগিং থেকে ইনকাম টাও অনেক বেশি, কেননা ট্রাভেল ব্লগিং এর ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স এর যে এড গুলা দেখানো হয় তার সি,পি,ছি রেট টা অনেক বেশি। সেই সঙ্গে আপনি যদি ট্রাভেল ব্লগ করেন তাহলে আপনাকে গুগল অ্যাডসেন্স পেতেও কোন ঝামেলা হবে না, আর যদি ট্রাভেল ব্লগিং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে হয় তাহলে আপনি চোখ বন্ধ করে ট্রাভেল ব্লগিং করতে পারেন। ট্রাভেল এইটা এমন একটা টপিক যা কখনো শেষ হবার নয়। তাহলে আপনি ট্রাভেল করতে থাকুন এবং লিখতে থাকুন। 

Comments

Popular posts from this blog

Google Adsense ইনকাম বাড়ানোর কার্যকারী কিছু টিপস

আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত পরিমান ভিজিটর থাকা শর্তেও আপনার গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আরনিং ( Earning) অনেক কম হচ্ছে, কিন্তু কেন ? আপনার গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম কম হওয়ার পিছনে অনেক গুলা কারন কাছে। তাহলে চলুন সেই কারন গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক, এবং সেই সঙ্গে কি করলে আপনার গুগল অ্যাডসেন্স থেকে মিনিনাম ৩০% ইনকাম বেশি করতে পারবেন।  গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম কম হওয়ার পিছনে কি কি কারন থেকে থাকে ?
আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত পরিমান ভিজিটর না থাকার কারনে ।আপনি আপনার ব্লগে কি টাইপ এর কনটেন্ট পাবলিশ করেনআপনার কনটেন্ট গুলা কি ল্যাংগুয়েজ এর উপর বেজ করে তৈরি করা - মানে কি ভাষায় আপনার ব্লগের আর্টিকেল গুলা লেখা ।আপনার ব্লগে একটি পেজের ভিতর গুগল অ্যাডসেন্স এর কতো গুলা এড লাগানো আছে ।
আপনার ব্লগে অনেক ভালো ভালো কনটেন্ট আছে, কিন্তু আপনার ব্লগ এর বয়স বেশি দিন না, এই জন্য আপনার ব্লগ পপুলার ও না, আর এই জন্য আপনার ব্লগে ভিজিটর ও কম। তো যদি এমন এমন আপনার ব্লগ এর সব কিছুই ভালো শুধু আপনার ব্লগে ভিজিটর নেই। তাহলে আপনি বলুন আপনার ইনকাম হবে কিভাবে, ইনকাম হয়ার জন্য তো আপনার আগে ভিজিটর দরকার। তবে খুব অল্প ভিজিটর হলেই অনেক…

ডার্ক ওয়েব কি কিভাবে কাজ করে বিস্তারিত

ডার্ক ওয়েব নাম টাই কেমন একটু অদ্ভুত টাইপ এর টাই না। আর তা ছাড়া ডার্ক ওয়েব এর নাম শুনলেই অনেকে আছে আঁতকে উঠে। এবং অনেকে এটা বিশ্বাস ও করে যে ডার্ক ওয়েব অনেক খারাপ, ডার্ক ওয়েবে সব খারাপ কার্যক্রম হয়ে থাকে। আসলে ব্যাপার টা ঠিক টা নয়। ডার্ক ওয়েব বলতেই যে সব খারাপ তা নয়। ডার্ক ওয়েব কি, কেন এবং কিভাবে ব্যবহার করবেন এবং ডার্ক ওয়েব এর ভালো এবং খারাপ উভয় দিক নিয়েই বিস্তারিত বলবো। ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে আগে সার্ফেস ওয়েব এর কথা জানতে হবে।এখন এই সার্ফেস ওয়েব টা আবার কি? আচ্ছা আমি একটু সহজ ভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি, পুরো ইন্টারনেট এর ৪% হোল সার্ফেস ওয়েব এবং বাকি ৯৬% হোল ডার্ক এবং ডিপ ওয়েব। ডিপ ওয়েব এর প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি। সার্ফেস ওয়েব বলতে বুঝায় যেমন ফেচবুক , ইউটিউব , ইন্সটাগ্রাম , টুইটার , গুগল এসব আর কি। 
ডার্ক ওয়েব কি ?
সার্ফেস ওয়েব এ আপনি যে সকল ওয়েবসাইট পাবেন তার ডোমেইন নেম এরকম হয়ে থাকে, .Com .Info .Net .Org আর ডার্ক ওয়েব এর ডোমেইন নেম হয়ে থাকে .onion, এবং আপনি সাধারণত সার্ফেস ওয়েব ব্রাউজ করার সময় যে সকল ব্রাউজার ব্যবহার করে থাকেন, আপনাকে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করতে হলে এসকল …